ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মনপুরায় প্রাক্তন কলেজ অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ, অস্বীকার যুবদলের

মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার মনপুরায় কলেজ অধ্যক্ষের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডাঃ কামাল উদ্দিনের নির্দেশে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আহত অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া।

রোববার রাত সাড়ে ৯ টায় উপজেলার হাজিরহাট সদর উপজেলা মডেল মসজিদে এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

আহত অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি মনপুরা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।

এদিকে রোববার রাত ১১ টায় মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা ও সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিম।

তারা জানান, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ থাকাকালীন মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া অন্যায়ভাবে তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সেলিমের চাকুরীচ্যুত করে। সেই কারণে সেলিম অধ্যক্ষের ওপর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করে। এতে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদলের কোন নেতা-কর্মী জড়িত নয়। অধ্যক্ষের এমন অভিযোগের নিন্দা জানান তারা।

একইভাবে অধ্যক্ষের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত নয় বলে জানান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব হোসেন হাওলাদার।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী মোঃ সেলিমকে চাকুরীচ্যুত করে। এই ঘটনায় চাকরী ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করে সেলিম। যা জাতীয় ও আঞ্চলিক একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

ওই চাকুরীচ্যুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেলিমসহ আত্নীয়স্বজনরা সাবেক অধ্যক্ষকে মডেল মসজিদে গতিরোধ করে কথা কাটাকাটি করে। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষের ওপর হামলা ও মারধর করে বলে স্থানীয়রা জানান। পরে আহত অবস্থায় অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে স্থানীয়রা।

এই ব্যাপারে মনোয়ারা বেগম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, অসুস্থ্য বাবাকে দেখতে পরিবার নিয়ে মনপুরা আসেন। মডেল মসজিদে নামাজ শেষে হাদিস তালিমের পর আমার ওপর যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা-কর্মীরা হামলা করে আহত করে। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডাঃ কামাল উদ্দিনের নির্দেশে এই হামলা হয় দাবী করেন তিনি।

এই ব্যাপারে অভিযুক্ত মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের চাকুরীচ্যুত তৃতীয়শ্রেণী কর্মচারী সেলিম জানান, অবৈধভাবে কেন আমাকে চাকুরীচ্যুত করেছে সেইটা জানতে সাবেক অধ্যক্ষের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। বরং ওনি ওল্টো আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার ওপর হাত তোলে।

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডাঃ কামাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ্য হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছি। মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের চাকুরীচ্যুত ঘটনা নিয়ে অধ্যক্ষের সাথে গন্ডগোল হয়েছে। এতে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবকদল কেউ জড়িত নয় দাবী করেন তিনি।

এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পায় নাই। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

​আত্রাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ও ১৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ

মনপুরায় প্রাক্তন কলেজ অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ, অস্বীকার যুবদলের

প্রকাশের সময় : ০৩:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার মনপুরায় কলেজ অধ্যক্ষের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডাঃ কামাল উদ্দিনের নির্দেশে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আহত অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া।

রোববার রাত সাড়ে ৯ টায় উপজেলার হাজিরহাট সদর উপজেলা মডেল মসজিদে এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

আহত অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি মনপুরা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।

এদিকে রোববার রাত ১১ টায় মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা ও সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিম।

তারা জানান, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ থাকাকালীন মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া অন্যায়ভাবে তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সেলিমের চাকুরীচ্যুত করে। সেই কারণে সেলিম অধ্যক্ষের ওপর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করে। এতে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদলের কোন নেতা-কর্মী জড়িত নয়। অধ্যক্ষের এমন অভিযোগের নিন্দা জানান তারা।

একইভাবে অধ্যক্ষের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত নয় বলে জানান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব হোসেন হাওলাদার।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী মোঃ সেলিমকে চাকুরীচ্যুত করে। এই ঘটনায় চাকরী ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করে সেলিম। যা জাতীয় ও আঞ্চলিক একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

ওই চাকুরীচ্যুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেলিমসহ আত্নীয়স্বজনরা সাবেক অধ্যক্ষকে মডেল মসজিদে গতিরোধ করে কথা কাটাকাটি করে। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষের ওপর হামলা ও মারধর করে বলে স্থানীয়রা জানান। পরে আহত অবস্থায় অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে স্থানীয়রা।

এই ব্যাপারে মনোয়ারা বেগম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, অসুস্থ্য বাবাকে দেখতে পরিবার নিয়ে মনপুরা আসেন। মডেল মসজিদে নামাজ শেষে হাদিস তালিমের পর আমার ওপর যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা-কর্মীরা হামলা করে আহত করে। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডাঃ কামাল উদ্দিনের নির্দেশে এই হামলা হয় দাবী করেন তিনি।

এই ব্যাপারে অভিযুক্ত মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের চাকুরীচ্যুত তৃতীয়শ্রেণী কর্মচারী সেলিম জানান, অবৈধভাবে কেন আমাকে চাকুরীচ্যুত করেছে সেইটা জানতে সাবেক অধ্যক্ষের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। বরং ওনি ওল্টো আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার ওপর হাত তোলে।

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডাঃ কামাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ্য হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছি। মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের চাকুরীচ্যুত ঘটনা নিয়ে অধ্যক্ষের সাথে গন্ডগোল হয়েছে। এতে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবকদল কেউ জড়িত নয় দাবী করেন তিনি।

এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পায় নাই। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।