ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

পারিবারিক টানাপোড়েন পেরিয়ে বিটিভিতে ‘রঙের বাজার’: নওগাঁর বাউল শাহিনের সাফল্যের গল্প

মোছা:রিমা খাতুন: নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার ভঁড় তেঁতুলিয়া গ্রামের এক প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে আজ জাতীয় টেলিভিশনের পর্দায় জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ ও সম্ভাবনাময় বাউল শিল্পী শাহিন। সব বাধা-বিপত্তি আর পারিবারিক টানাপোড়েনকে জয় করে কেবল সুরের মায়ায় আজ তিনি দেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে এক পরিচিত মুখ—বাউল শাহিন।

মোঃ আব্দুস সামাদ বাবলু ও মায়ের আদরের সন্তান শাহিনের পরিবারে বর্তমানে রয়েছেন মা, বাবা, স্ত্রী এবং একটি পুত্র সন্তান। মধ্যবিত্ত পরিবারের নানা দায়িত্বের মাঝেও নিজের ভেতরের বাউল সত্তাকে মরতে দেননি এই শিল্পী।

শৈশবের গুনগুন থেকে গানের হাতেখড়ি ছোটবেলায় মনের অজান্তেই গুনগুন করে গান গাইতেন শাহিন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শৈশব-কৈশোরে পা দিয়ে তিনি বুঝতে পারেন—গানই তার জীবনের সবকিছু। গানের প্রতি এই অদম্য টান থেকেই নিজ উপজেলার ‘রঙধনু একাডেমি’তে যাতায়াত শুরু করেন তিনি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার প্রাতিষ্ঠানিক গানের হাতেখড়ি।

বাউল শাহিনের সংগীত জীবনের শ্রেষ্ঠ মোড়টি আসে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার **আনিসুর রহমান আনিস**-এর সান্নিধ্যে এসে। শাহিন তাকে নিজের পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু মানেন। শাহিন জানান, “গুরু আনিসুর রহমান আনিস স্যারের হাত ধরেই আমার সংগীতে আসা। তিনি যদি আমাকে হাত বাড়িয়ে না দিতেন, তবে হয়তো আমার এই বাউল সাধনা কোনোদিনই সম্ভব হতো না।”

বাধা বিপত্তি ও ফিরে আসার গল্প:

স্থানীয় একটি সংগীত আয়োজনে প্রথম মঞ্চে গান গেয়েছিলেন বাউল শাহিন। প্রথম পরিবেশনাতেই কুড়িয়েছিলেন শ্রোতাদের বিপুল করতালি। এরপর বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুপ্রেরণায় গানের জগতে পাকাপোক্তভাবে পথচলা শুরু করেন। তবে পথটা মসৃণ ছিল না। সংসার ও পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের কারণে বহুবার ভেবেছেন সংগীত জগৎ ছেড়ে দেবেন, গান হয়তো তাকে দিয়ে হবে না। কিন্তু গুরু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের অব্যাহত অনুপ্রেরণায় গান তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

দেশজুড়ে সুনাম ও বিটিভির আঙিনায়:

নিজ এলাকায় ছোটখাটো প্রোগ্রাম দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, সুমিষ্ট কণ্ঠ আর গায়কীর গুণে বাউল শাহিন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গান গেয়ে বিপুল সুনাম অর্জন করেছেন। আর এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তার ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছে এক নতুন পালক। দেশের ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) থেকে আসে বড় সুযোগ।
বাংলাদেশের বিখ্যাত সংগীত সম্পাদক হাসান মতিউর রহমানের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান **‘রঙের বাজার’** এ গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। এই পারফরম্যান্স তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।

অনুপ্রেরণার বাতিঘর বাউল রিঙ্কু:

বাউল শাহিন তার এই সংগীতযাত্রায় যার অবদান ও ভালোবাসাকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করেন, তিনি হলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি বাউল শিল্পী রিঙ্কু। শাহিন বলেন,
“আমার সংগীতে আসার পেছনে যার সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা, তিনি আমার প্রিয় মানুষ, দেশের কিংবদন্তি বাউল শিল্পী রিঙ্কু কাকা। উনার অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতাতেই আজ আমি একজন বাউল শিল্পী হিসেবে শ্রোতাদের ভালোবাসা পাচ্ছি। উনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা ও দোয়া রইল।”

আগামীর স্বপ্ন:

বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলেও বাউল শাহিনের প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে বাংলার মাটির গান, বাউল গানকে দেশ ও দেশের বাইরে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।

নওগাঁর এই প্রতিভাবান বাউল শিল্পী দেশবাসী ও শ্রোতাদের কাছে দোয়া এবং শুভকামনা চেয়েছেন, যেন সুরের এই পথ ধরে তিনি আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

​আত্রাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ও ১৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ

পারিবারিক টানাপোড়েন পেরিয়ে বিটিভিতে ‘রঙের বাজার’: নওগাঁর বাউল শাহিনের সাফল্যের গল্প

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

মোছা:রিমা খাতুন: নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার ভঁড় তেঁতুলিয়া গ্রামের এক প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে আজ জাতীয় টেলিভিশনের পর্দায় জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ ও সম্ভাবনাময় বাউল শিল্পী শাহিন। সব বাধা-বিপত্তি আর পারিবারিক টানাপোড়েনকে জয় করে কেবল সুরের মায়ায় আজ তিনি দেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে এক পরিচিত মুখ—বাউল শাহিন।

মোঃ আব্দুস সামাদ বাবলু ও মায়ের আদরের সন্তান শাহিনের পরিবারে বর্তমানে রয়েছেন মা, বাবা, স্ত্রী এবং একটি পুত্র সন্তান। মধ্যবিত্ত পরিবারের নানা দায়িত্বের মাঝেও নিজের ভেতরের বাউল সত্তাকে মরতে দেননি এই শিল্পী।

শৈশবের গুনগুন থেকে গানের হাতেখড়ি ছোটবেলায় মনের অজান্তেই গুনগুন করে গান গাইতেন শাহিন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শৈশব-কৈশোরে পা দিয়ে তিনি বুঝতে পারেন—গানই তার জীবনের সবকিছু। গানের প্রতি এই অদম্য টান থেকেই নিজ উপজেলার ‘রঙধনু একাডেমি’তে যাতায়াত শুরু করেন তিনি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার প্রাতিষ্ঠানিক গানের হাতেখড়ি।

বাউল শাহিনের সংগীত জীবনের শ্রেষ্ঠ মোড়টি আসে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার **আনিসুর রহমান আনিস**-এর সান্নিধ্যে এসে। শাহিন তাকে নিজের পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু মানেন। শাহিন জানান, “গুরু আনিসুর রহমান আনিস স্যারের হাত ধরেই আমার সংগীতে আসা। তিনি যদি আমাকে হাত বাড়িয়ে না দিতেন, তবে হয়তো আমার এই বাউল সাধনা কোনোদিনই সম্ভব হতো না।”

বাধা বিপত্তি ও ফিরে আসার গল্প:

স্থানীয় একটি সংগীত আয়োজনে প্রথম মঞ্চে গান গেয়েছিলেন বাউল শাহিন। প্রথম পরিবেশনাতেই কুড়িয়েছিলেন শ্রোতাদের বিপুল করতালি। এরপর বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুপ্রেরণায় গানের জগতে পাকাপোক্তভাবে পথচলা শুরু করেন। তবে পথটা মসৃণ ছিল না। সংসার ও পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের কারণে বহুবার ভেবেছেন সংগীত জগৎ ছেড়ে দেবেন, গান হয়তো তাকে দিয়ে হবে না। কিন্তু গুরু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের অব্যাহত অনুপ্রেরণায় গান তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

দেশজুড়ে সুনাম ও বিটিভির আঙিনায়:

নিজ এলাকায় ছোটখাটো প্রোগ্রাম দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, সুমিষ্ট কণ্ঠ আর গায়কীর গুণে বাউল শাহিন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গান গেয়ে বিপুল সুনাম অর্জন করেছেন। আর এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তার ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছে এক নতুন পালক। দেশের ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) থেকে আসে বড় সুযোগ।
বাংলাদেশের বিখ্যাত সংগীত সম্পাদক হাসান মতিউর রহমানের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান **‘রঙের বাজার’** এ গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। এই পারফরম্যান্স তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।

অনুপ্রেরণার বাতিঘর বাউল রিঙ্কু:

বাউল শাহিন তার এই সংগীতযাত্রায় যার অবদান ও ভালোবাসাকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করেন, তিনি হলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি বাউল শিল্পী রিঙ্কু। শাহিন বলেন,
“আমার সংগীতে আসার পেছনে যার সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা, তিনি আমার প্রিয় মানুষ, দেশের কিংবদন্তি বাউল শিল্পী রিঙ্কু কাকা। উনার অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতাতেই আজ আমি একজন বাউল শিল্পী হিসেবে শ্রোতাদের ভালোবাসা পাচ্ছি। উনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা ও দোয়া রইল।”

আগামীর স্বপ্ন:

বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলেও বাউল শাহিনের প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে বাংলার মাটির গান, বাউল গানকে দেশ ও দেশের বাইরে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।

নওগাঁর এই প্রতিভাবান বাউল শিল্পী দেশবাসী ও শ্রোতাদের কাছে দোয়া এবং শুভকামনা চেয়েছেন, যেন সুরের এই পথ ধরে তিনি আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে পারেন।