
মো.মুরাদ মৃধা রাণীনগর(নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর রাণীনগরে একটি পারিবারিক সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের ভান্ডারগ্রাম নওপুকুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নওপুকুরিয়া গ্রামের এছাহক ফকিরের ছেলে আদম ফকির (২৫) গত ১৫ দিন আগে বিদেশ থেকে বাড়ি ফেরেন। ঘরে প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি আনুমানিক ৪০-৪৫ বছর বয়সী এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দুই দিন আগে ওই দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি নিজ বাড়িতে আসেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম স্ত্রীর পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসা করতে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এছাহক ফকিরের উঠানে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে প্রথম পক্ষের স্ত্রীর স্বজনদের পাশাপাশি মেয়ে পক্ষকে সহায়তার জন্য স্থানীয় ‘কাজী বংশের’ লোকজন উপস্থিত হন। প্রথম স্ত্রীর বিয়ের কোনো কাবিন রেজিস্ট্রি না থাকায়, তার স্বজনরা ২০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে কাবিন রেজিস্ট্রির দাবি জানান।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ১২ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বৈঠকেই কাবিন রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত ও দেনমোহরের অঙ্ক নিয়ে বৈঠক শেষেই কাজী বংশ ও ফকির বংশের লোকজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার রাতের ওই বিরোধের জেরে শনিবার বেলা ১১টা নাগাদ নতুন করে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। কাজী পক্ষের ফারেস কাজী অভিযোগ করে বলেন “শনিবার সকালে আব্দুস সাত্তার কাজীর ছেলে রুহুল আমিন কাজী (৩০) এছাহক ফকিরের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এছাহক ফকির ও তার লোকজন পথরোধ করে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষে কাজী পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন। তারা হলেন: কুদ্দুস কাজী (২৮) জাহাঙ্গীর কাজী (৩৬) নুর ইসলাম কাজী (৩৮) হেলাল কাজী (৪২) রেজাউল ইসলাম রাব্বানী কাজী (৩৮)ফাহিম কাজী (২৬) শিহাব কাজী (১৫) আসমা খাতুন (৪০) দিলবর কাজী (৪৫)
অন্যদিকে, এছাহক ফকিরের পক্ষের দাবি, তারা আগে হামলা করেননি। এছাহক ফকির বলেন “শুক্রবার রাতের সালিশের জের ধরে শনিবার দুপুরে কাজী পরিবারের লোকজন হঠাৎ করেই দলবল নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা কেবল আত্মরক্ষা করতে গিয়েছি।”
এই পক্ষের আহত ৬ জন হলেন এছাহক ফকির (৫৫) ইসরাফিল ফকির (৩৫) জাহিদুল ফকির (৪২) রিপন ফকির (১৮) আব্দুল মজিদ ফকির (৩২) জিয়াউর ফকির (৪০)
বর্তমানে আহত ১৫ জনই রাণীনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর পরই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান ঘটনাটি জানার পর পরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকাল বার্তা ২৪ ডেস্ক : 








