
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মহাদেবপুরের উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ।
বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের দাবি, কয়েক মাস ধরে ওই শিক্ষক ছাত্রীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ব্যাড ট্যাচ করে আসছিলেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেননি তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কয়েক দফা বৈঠক করে তাকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হলেও তা মানেননি প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল আবেদীন বর্ষণ ও অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম।
শুধু ওই এক শিক্ষার্থীই নয় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছে। সর্বশেষ প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়। পরে গত রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ বিদ্যালয়ে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ক্লাসে হৈচৈ করলে শিক্ষার্থীদের থামাতে তিনি গায়ে হাত দিতেন। এ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল আবেদীন বর্ষণ বলেন, ওই শিক্ষককে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে তাকে ক্লাস নিতে হয়েছে।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পবিত্র কুমার বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আপস হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত একটি আপসনামা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধ আপসযোগ্য নয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।
আজকাল বার্তা ২৪ ডেস্ক : 














