ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বন্দরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা, রূপার গহনা, স্বর্ণের নাকফুলসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

ডাকাতিতে ব্যবহৃত দুটি ছুরি ও একটি চাইনিজ কুড়ালও জব্দ করা হয়েছে।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-বন্দরের সোনাচরা এলাকার মতি মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে আলী হোসেন (৩২), একই এলাকার ঢাকেশ্বরী-১ নম্বর এলাকার ফজলুল হকের ছেলে মো. মিজান (২৬), উত্তর লক্ষণখোলা এলাকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মো. অনিক (২২), মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শোলারচর এলাকার মৃত আব্দুল মতিন বেপারীর ছেলে সুমন বেপারী (৩৮) এবং বন্দরের সোনাচরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল হোসেনের ছেলে রাজু আহমেদ (২৪)।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বন্দরের সোনাচরা এলাকার ঢাকেশ্বরী বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল দোকানে ঢুকে এক নারী ও দোকানদারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তারা স্বর্ণালংকার, রূপার গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক ২৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
 

পুরো ঘটনা দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে ওই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় বন্দর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। বাকি দুজন দোকানের বাইরে অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার আনোয়ারের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা, মিজানের বিরুদ্ধে তিনটি ডাকাতি মামলা, অনিকের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা এবং রাজুর বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, ১২ ভরি রূপার গহনা, তিন জোড়া নূপুর, দুটি চুড়ি ও পাঁচটি আংটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বর্ণ ও রূপার প্রলেপ দেওয়া দুটি রুলি এবং একটি স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়।

ডাকাতিতে ব্যবহৃত ১৮ ইঞ্চি ও ১২ ইঞ্চি লম্বা দুটি ছুরি এবং একটি চাইনিজ কুড়ালও জব্দ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ডাকাতদের পরনে থাকা শার্ট, গেঞ্জি ও প্যান্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে বন্দর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

​আত্রাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ও ১৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ

বন্দরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫।

প্রকাশের সময় : ১১:৪০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা, রূপার গহনা, স্বর্ণের নাকফুলসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

ডাকাতিতে ব্যবহৃত দুটি ছুরি ও একটি চাইনিজ কুড়ালও জব্দ করা হয়েছে।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-বন্দরের সোনাচরা এলাকার মতি মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে আলী হোসেন (৩২), একই এলাকার ঢাকেশ্বরী-১ নম্বর এলাকার ফজলুল হকের ছেলে মো. মিজান (২৬), উত্তর লক্ষণখোলা এলাকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মো. অনিক (২২), মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শোলারচর এলাকার মৃত আব্দুল মতিন বেপারীর ছেলে সুমন বেপারী (৩৮) এবং বন্দরের সোনাচরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল হোসেনের ছেলে রাজু আহমেদ (২৪)।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বন্দরের সোনাচরা এলাকার ঢাকেশ্বরী বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল দোকানে ঢুকে এক নারী ও দোকানদারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তারা স্বর্ণালংকার, রূপার গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক ২৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
 

পুরো ঘটনা দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে ওই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় বন্দর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। বাকি দুজন দোকানের বাইরে অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার আনোয়ারের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা, মিজানের বিরুদ্ধে তিনটি ডাকাতি মামলা, অনিকের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা এবং রাজুর বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, ১২ ভরি রূপার গহনা, তিন জোড়া নূপুর, দুটি চুড়ি ও পাঁচটি আংটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বর্ণ ও রূপার প্রলেপ দেওয়া দুটি রুলি এবং একটি স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়।

ডাকাতিতে ব্যবহৃত ১৮ ইঞ্চি ও ১২ ইঞ্চি লম্বা দুটি ছুরি এবং একটি চাইনিজ কুড়ালও জব্দ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ডাকাতদের পরনে থাকা শার্ট, গেঞ্জি ও প্যান্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে বন্দর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।