নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ থেকে এবারে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১০ পরীক্ষার্থী। কলেজটিতে কর্মরত আছেন ১৭ জন শিক্ষক। তবে ওই কলেজের ১৭ জন শিক্ষক মিলে ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন পরীক্ষার্থীকেও পাস করতে পারেননি।
ওই প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে বর্তমানে মোট ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় কারিগরি বোর্ডের অধীনে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন পরীক্ষার্থীও পাশ করতে পারেননি।
শুধু পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ নয়, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নওগাঁর আরও ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। গত শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এমন চিত্র বেরিয়ে এসেছে।
এছাড়াও নওগাঁর যে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাহারুল উমুল আলিম মাদ্রাসা ও আরিফ মেমোরিয়াল কলেজ, পোরশার মেদা হযরত আশা সিদ্দীকা (রা.) আলিম মাদ্রাসা, নিয়ামতপুরের রাজাপুর বটতলী হাট কলেজ ও সাংশৈল আদিবাসী স্কুল এন্ড কলেজ, রাণীনগরের বড়খোল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, ধামইরহাটের শহীদ আব্দুল জব্বার মঙ্গলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মান্দার শ্যাম চাঁদ মডেল উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ ও ঘোনা আদর্শ হাইস্কুল এন্ড কলেজ এবং আত্রাই উপজেলার সোনাইডাঙ্গা মহিলা বি এম এন্ড টেকনিক্যাল কলেজ।
স্থানীয়রা বলেন, সরকারের কোষাগার থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে মাসে বেতন-ভাতা নিয়মিত পান। তারপরেও ১৭ শিক্ষকের একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ জন পরীক্ষার্থী পাস করে না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিত এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক কিংবা শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে বের করা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হামিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগই অনিয়মিত। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি কারখানা কিংবা দোকানে কাজ করে। এদেরকে ধরে ধরে এনে ক্লাস করাতে হয়। এ কারণে এখানকার ফলাফল এতো খারাপ।