প্রকাশের সময় :
১১:১৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৪
বার পঠিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তেলবাহী জাহাজের চলাচল ও পণ্য পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে।
এর পাশাপাশি পাইপলাইন ও হরমুজ এড়িয়ে যাওয়া বিভিন্ন বন্দর দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রতিদিন আরও প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়েছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ যুদ্ধ শুরুর পরের সর্বনিম্ন অবস্থার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহের এই পুনরুদ্ধার বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের চাপ কিছুটা কমাতে পারে। তবে যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
কেপলারের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। বর্তমানে তা প্রায় ১ কোটি ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন বিকল্প রুটসহ মধ্যপ্রাচ্যের মোট তেল রপ্তানিও আগের তুলনায় বেড়েছে।
তবে জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন উৎসের তথ্য আলাদা হলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের প্রবাহ বেড়েছে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির সিনিয়র ফেলো ড্যানিয়েল স্টার্নঅফ বলেন, কোনো একটি ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে একাধিক উৎসের পরিসংখ্যান বিবেচনা করা উচিত। তবে সব তথ্যই সেপ্টেম্বরে তেলের প্রবাহ বাড়ার দিকে ইঙ্গিত করছে।হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন বাড়ার পেছনে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। জাহাজগুলোকে হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে মার্কিন বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। এতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো আবারও হরমুজের মাধ্যমে তেল পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছে।