অনলাইন ডেস্কঃ রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া বক্তব্যের কারণ জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম প্রিভেনশন বিভাগের যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি রাজধানীতে একটি প্রতিবাদ মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার আমাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না। তার ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চান, রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরাই ঘটাচ্ছেন কি না, নাকি অন্য কেউও জড়িত।
এদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। তার কাছ থেকে ককটেল তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, সরঞ্জাম এবং ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপি জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক অটোরিকশাচালক আহত হন। পরে ঘটনাটি তদন্তে ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী ও শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন বাগাশুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসা থেকে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত কস্টিক সোডা ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, সালফার ১ কেজি ৬০০ গ্রাম, মারবেল ৫ কেজি, ১ ইঞ্চি তারকাঁটা ২ কেজি, লাল কস্টেপ ২০টি ও কালো কস্টেপ ১১টি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া তিনটি কার্টনে ৯ হাজার কাগজের মুখোশ, মুখোশ পরার ইলাস্টিক ৩০ প্যাকেট, বিস্ফোরক উপাদান গুঁড়া করার কাজে ব্যবহৃত একটি জাইপান ব্র্যান্ডের ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া জানান, গ্রেপ্তার ইমন লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা মুখোশগুলো মানুষের মুখের আকৃতির। বিভিন্ন মিছিল বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সময় পরিচয় গোপন রাখতে এগুলো ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সাহায্যে মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় রাখা হয়েছিল বলে তার বক্তব্যের বরাতে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, ইমনের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা বিস্ফোরক উপকরণ দিয়ে ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। তার বাসায় আরও একজন ব্যক্তি আসতেন, যিনি এসব উপকরণ গুঁড়া করে ককটেল তৈরি করতেন বলে ইমন জানিয়েছেন। এক নেতার নির্দেশে তিনি এ কাজে যুক্ত হন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।
রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইমনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই জড়িত।