ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সমুদ্রের তলদেশে স্বর্ণ-রুপার বিশাল ভান্ডার পেল চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে একটি বিশাল উষ্ণ জলীয় খনিজ ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন চীনা গবেষকরা। সেখানে স্বর্ণ-রুপা ছাড়াও আরও মূল্যবাদ ধাতু রয়েছে।সিসিটিভি নিউজের বরাত দিয়ে গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই এলাকায় থাকা সম্ভাব্য বহুধাতব সালফাইডের মজুত বিশ্বের সমুদ্রতলের বিশ্বমানের খনিজ মজুতের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আকরিকের নমুনায় স্থলভাগের খনিজ মজুতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মাত্রায় স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া গেছে।

গত ১০ আগস্ট শেনঝেন থেকে শিয়াংইয়াংহং-১০ নামের গবেষণা জাহাজে করে ১৮ দিনের সমুদ্র অভিযানে যাত্রা শুরু করে বৈজ্ঞানিক দলটি। এ সময় গবেষকেরা ডুবযান ব্যবহার করে মোট সাতবার সমুদ্রের গভীরে নামেন। নতুন আবিষ্কৃত খনিজ ভান্ডারটি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ব্যাক-আর্ক বেসিনে অবস্থিত। এটি চীনের একক অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে।

এর আগে গবেষকেরা ওই এলাকায় ১০টিরও বেশি জরিপ চালায়। জরিপে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার গভীরে কয়েক ডজন উচ্চ-তাপমাত্রার হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট বা উষ্ণ জলীয় উৎস শনাক্ত করা হয়। এসব ভেন্ট থেকে বের হওয়া হাইড্রোথার্মাল তরলের তাপমাত্রা ৩১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল।

কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিক থেকে ১৫.৪ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ এবং ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত রুপা পাওয়া গেছে। এই খনিজ ভান্ডারে তামা ও দস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর পাশাপাশি বিশাল পরিমাণে পলিমিটালিক সালফাইড রয়েছে, যা বিশ্বমানের সমুদ্রগর্ভস্থ খনির সমতুল্য।

গবেষকরা বলছেন, এই খনিজ ভান্ডারে স্বর্ণ, রুপা, তামা, দস্তা ও অন্য সম্পদের ঘনত্ব বেশি হলেও এ ধরনের উষ্ণ জলীয় উৎস এখনই খননের জন্য প্রস্তুত নয়। গভীর সমুদ্রে প্রচণ্ড চাপ এবং জটিল ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতিসহ নানা কারণে এখন এসব খনিজ উত্তোলন করা সম্ভব নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

​আত্রাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ও ১৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ

সমুদ্রের তলদেশে স্বর্ণ-রুপার বিশাল ভান্ডার পেল চীন

প্রকাশের সময় : ১১:২৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে একটি বিশাল উষ্ণ জলীয় খনিজ ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন চীনা গবেষকরা। সেখানে স্বর্ণ-রুপা ছাড়াও আরও মূল্যবাদ ধাতু রয়েছে।সিসিটিভি নিউজের বরাত দিয়ে গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই এলাকায় থাকা সম্ভাব্য বহুধাতব সালফাইডের মজুত বিশ্বের সমুদ্রতলের বিশ্বমানের খনিজ মজুতের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আকরিকের নমুনায় স্থলভাগের খনিজ মজুতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মাত্রায় স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া গেছে।

গত ১০ আগস্ট শেনঝেন থেকে শিয়াংইয়াংহং-১০ নামের গবেষণা জাহাজে করে ১৮ দিনের সমুদ্র অভিযানে যাত্রা শুরু করে বৈজ্ঞানিক দলটি। এ সময় গবেষকেরা ডুবযান ব্যবহার করে মোট সাতবার সমুদ্রের গভীরে নামেন। নতুন আবিষ্কৃত খনিজ ভান্ডারটি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ব্যাক-আর্ক বেসিনে অবস্থিত। এটি চীনের একক অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে।

এর আগে গবেষকেরা ওই এলাকায় ১০টিরও বেশি জরিপ চালায়। জরিপে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার গভীরে কয়েক ডজন উচ্চ-তাপমাত্রার হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট বা উষ্ণ জলীয় উৎস শনাক্ত করা হয়। এসব ভেন্ট থেকে বের হওয়া হাইড্রোথার্মাল তরলের তাপমাত্রা ৩১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল।

কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিক থেকে ১৫.৪ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ এবং ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত রুপা পাওয়া গেছে। এই খনিজ ভান্ডারে তামা ও দস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর পাশাপাশি বিশাল পরিমাণে পলিমিটালিক সালফাইড রয়েছে, যা বিশ্বমানের সমুদ্রগর্ভস্থ খনির সমতুল্য।

গবেষকরা বলছেন, এই খনিজ ভান্ডারে স্বর্ণ, রুপা, তামা, দস্তা ও অন্য সম্পদের ঘনত্ব বেশি হলেও এ ধরনের উষ্ণ জলীয় উৎস এখনই খননের জন্য প্রস্তুত নয়। গভীর সমুদ্রে প্রচণ্ড চাপ এবং জটিল ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতিসহ নানা কারণে এখন এসব খনিজ উত্তোলন করা সম্ভব নয়।