আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেটসংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি এবং একজন হোটেলকর্মী।
নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১০ বছরের একটি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
ভয়াবহ রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মর্জিনা বেগম বলেন, আমরা শ্বাস নিতে পারছিলাম না। বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। চারদিকে শুধু কালো ধোঁয়া আর বাঁচার চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। সবাই বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছিল। পরে কোনো রকমে জানালা ভেঙে স্থানীয়রা আমাদের বের করে আনেন।
অন্যদিকে, রাতের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কোহিনুর আক্তার। তার কথায় এখনো আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। তিনি বলেন, চারদিকে কালো ধোঁয়া। তখন শুধু চিৎকার করছিলাম-ভাইয়া, আমাদের বাঁচান, আমরা বের হতে পারছি না। অন্ধকারে লিফট চলছিল না। লোহার ছোট্ট সিঁড়ি, কিন্তু কালো ধোঁয়ার কারণে সেটাও দেখা যাচ্ছিল না। আমরা চারতলায় আটকে ছিলাম। সিঁড়ির ওপর আগুন জ্বলছিল।
তিনি আরও জানান, একজন এসে জানালা খুলে দেন, যাতে একটু বাতাস ঢুকতে পারে। আর একজন বলছিলেন, আপা, চুপ থাকেন, আমরা চেষ্টা করছি।’ কিছুক্ষণ পর যেন আল্লাহর দূত হয়ে একজন আমাদের কাছে এলেন। তিনি বললেন, ‘আপা, আমার কাছে টর্চ লাইট আছে। সেই টর্চের আলো অনুসরণ করেই আমরা ছাদে উঠি। দীর্ঘক্ষণ ছাদে আটকে থাকার পর দমকলকর্মীরা এসে আমাদের উদ্ধার করেন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন্টারন্যাশনাল’ হোটেলে আগুন লাগে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে হোটেলের একটি কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই সময় অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আগুনের পাশাপাশি ঘন কালো ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ অবস্থায় কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি। অচেতন অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
গভীর রাতে আগুন লাগায় অনেকেই সময়মতো বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ফলে বের হওয়ার আগেই হোটেলের বিভিন্ন অংশ ঘন ধোঁয়ায় ভরে যায়। দমকল সূত্রে জানা গেছে, ‘শিখা ইন্টারন্যাশনাল’ হোটেলে মোট ১৪ জন ছিলেন। পাশাপাশি আগুনের কারণে আশপাশের আরও চারটি হোটেল থেকেও মোট ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়।