কাপ্তাই প্রতিনিধি: রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার শিলছড়িতে আনসার ব্যাটালিয়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে প্রায় ১০ কোটি টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ খান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেওয়া এক প্রতিবাদপত্রে তিনি দাবি করেন, শিলছড়িতে অবস্থিত ইস্টার্ণ পাকিস্তান টিম্বার অ্যান্ড প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দুটি পৃথক ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ছিল। ১৯৬৮ সালের ৩ মে সম্পাদিত একটি খরিদ দলিলের মাধ্যমে স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সম্পত্তি ইস্টার্ণ পাকিস্তান টিম্বার অ্যান্ড প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক হাজী মোহাম্মদ ইসলাম খানের মালিকানায় আসে বলে প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দলিল অনুযায়ী ১০০ নম্বর ওয়াগ্গা মৌজার ১৬৩ নম্বর হোল্ডিংয়ের ১৪৯ নম্বর খতিয়ানে থাকা ২৩ দশমিক ১৭ একর জমিসহ গৃহ, কারখানা ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা হাজী মোহাম্মদ ইসলাম খান লাভ করেন। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পাদিত বণ্টননামা অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন করা হয়।
হাসান মাহমুদ খানের দাবি, পরবর্তীতে স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার কোম্পানি আইন অনুযায়ী ওয়ারিশদের নামে রেজিস্ট্রার্ড অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে নিবন্ধিত হয়। বর্তমানে কোম্পানির মেমোরান্ডাম অনুযায়ী তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন এবং কোম্পানির পক্ষে জমির ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করে আসছেন।
প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের জমির মালিকানা নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জমি খাস করার বিষয়ে মতামত দেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট জমি খাস খতিয়ানভুক্ত নয় মর্মে মতামত দেয় এবং বিধি অনুযায়ী অধিগ্রহণের সুপারিশ করে বলে প্রতিবাদপত্রে দাবি করা হয়েছে।
এরপর কাপ্তাই থানা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১ একর এবং আনসার ব্যাটালিয়নের জন্য ৮ দশমিক ০৯ একরসহ মোট ৯ দশমিক ০৯ একর জমি বিধি অনুযায়ী অধিগ্রহণ করা হয় বলে এতে উল্লেখ করা হয়। অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ খান গ্রহণ করেন বলেও প্রতিবাদপত্রে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবাদপত্রে আরও দাবি করা হয়, অধিগ্রহণের পর কোম্পানির নামে বর্তমানে ১৪ দশমিক ০৮ একর জমি রয়েছে। ওই জমির মালিকানা নিয়ে একটি মহল বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে আসছে। অভিযোগে কোম্পানির মালিকানাকে পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হলেও জেলা প্রশাসনের শুনানিতে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন হাসান মাহমুদ খান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে সুবিধা করতে না পেরে একটি মহল সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
প্রতিবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ খান।
প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষর করেছেন হাসান মাহমুদ খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এনায়েত বাজার, চট্টগ্রাম।