ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ঈদযাত্রায় গাজীপুরে ঘরমুখো মানুষের চাপ, ভোগান্তি বাড়িয়েছে যানজট ও বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঈদুল আজহা সামনে রেখে গাজীপুরসহ রাজধানীর আশপাশের শিল্পাঞ্চল থেকে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো শ্রমজীবী মানুষ। মঙ্গলবার দুপুরের পর অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত যানবাহন, ধীরগতি ও বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। টঙ্গী, গাজীপুরা, বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকায় যান চলাচল ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। কোথাও কোথাও থেমে থেমে যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন অনেকে। বিশেষ করে দূরপাল্লার পরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় নিম্নআয়ের শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে ট্রাক ও পিকআপে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।
ভোগড়া বাইপাস এলাকায় কথা হয় কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে। তারা জানান, স্বল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বাসে উঠতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দুপুরের দিকে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। খোলা ট্রাক ও পিকআপে থাকা যাত্রীরা বৃষ্টিতে ভিজে চরম দুর্ভোগে পড়েন। শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট ছিল সবচেয়ে বেশি।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম জানান, বৃষ্টির কারণে সড়কে ভোগান্তি বেড়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কে কাজ করছেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ধাপে ধাপে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক সড়কে নেমেছেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কারখানায় বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন ঠেকাতেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এদিকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে পানি অপসারণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ সময়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সেই চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

​আত্রাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ও ১৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ

ঈদযাত্রায় গাজীপুরে ঘরমুখো মানুষের চাপ, ভোগান্তি বাড়িয়েছে যানজট ও বৃষ্টি

প্রকাশের সময় : ০২:১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঈদুল আজহা সামনে রেখে গাজীপুরসহ রাজধানীর আশপাশের শিল্পাঞ্চল থেকে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো শ্রমজীবী মানুষ। মঙ্গলবার দুপুরের পর অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত যানবাহন, ধীরগতি ও বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। টঙ্গী, গাজীপুরা, বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকায় যান চলাচল ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। কোথাও কোথাও থেমে থেমে যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন অনেকে। বিশেষ করে দূরপাল্লার পরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় নিম্নআয়ের শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে ট্রাক ও পিকআপে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।
ভোগড়া বাইপাস এলাকায় কথা হয় কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে। তারা জানান, স্বল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বাসে উঠতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দুপুরের দিকে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। খোলা ট্রাক ও পিকআপে থাকা যাত্রীরা বৃষ্টিতে ভিজে চরম দুর্ভোগে পড়েন। শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট ছিল সবচেয়ে বেশি।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম জানান, বৃষ্টির কারণে সড়কে ভোগান্তি বেড়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কে কাজ করছেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ধাপে ধাপে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক সড়কে নেমেছেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কারখানায় বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন ঠেকাতেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এদিকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে পানি অপসারণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ সময়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সেই চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।